বিগত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চড়াখোলা স্বর্গোন্নীতা মারীয়া গির্জার প্রাঙ্গণে ‘চড়াখোলা সততা খ্রীষ্টান সংস্থা’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো প্রয়াত পিটার ডমিনিক রোজারিও (দুঙ্গু পণ্ডিত) স্মারকগ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রকাশনা উৎসব। সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না গেলেও জানা যায়, তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর চড়াখোলা গ্রামে পিটার ডমিনিক ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে ছিলেন একজন লেখক, গীতিকবি, নাট্যকার, গীতিকার, অনুবাদক, নাট্যপরিচালক, নাট্টাভিনেতা, পরামর্শদাতা এবং এরকম আরও অনেক জানা-অজানা গুণে গুণান্বিত এক কৃতি ব্যক্তিত্ব। ভাওয়াল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এলাকায় শতবছর ধরে প্রচলিত প্রভু যিশুর জীবনভিত্তিক লীলাগান, বিভিন্ন সাধু-সাধ্বীবৃন্দের জীবনভিত্তিক পালাগান, প্রায়শ্চিত্তকালীন কষ্টের গান, সাধু আন্তনীর গান, বৈঠকী গান, গীতাবলীর বহু ভক্তিমূলক গান, বড়দিনের কীর্তন গান, কৃষি কাজে গাওয়া যোগালী গান, আলমার গীত ও বহু নাটক এবং শেক্সপিয়ারের মত কালজয়ী নাট্টকারের নাটকের অনুবাদ প্রভৃতি এ বিরল কৃতিত্ববান পণ্ডিতেরই সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্টিসমূহ এমনই প্রভাব বিস্তারকারী যে, তাঁর জন্মের পর প্রায় দেড় শত বছর এবং মৃত্যুর পর প্রায় পয়ষট্টি বছর অতিক্রান্ত হলেও, অদ্যাবধি মানুষ তাঁর রচিত গানগুলির পরিচালনা এবং অত্যন্ত ভক্তিভরে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
মূলত ২০, ২১ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি তিনদিনের এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানসূচীর মূল আকর্ষণ ছিলো দুঙ্গু পণ্ডিত স্মারকগ্রন্থের এই প্রকাশনার শুভ পর্বটি। পবিত্র খ্রিস্টযাগ পরিচালনা ও আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা আর্চ ডায়োসিসের মহামান্য আর্চবিশপ বিজয় এনডি ক্রুজ ওএমআই স্মারকগ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন। একই দিন চড়াখোলা গ্রামের বই পড়ার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান ‘বইয়ের ডাক’ এর মেলার শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। আর্চবিশপ মহোদয় ছাড়াও পবিত্র খ্রিস্টযাগ ও স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং শহীদ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সততা সংস্থার প্রেসিডেন্ট কমল উইলিয়াম গমেজ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রদীপ কস্তা, স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা পরিষদের আহ্বায়ক দিলীপ টমাস রোজারিও, ঢাকা আর্চ- ডায়োসিসের সম্মানিত চ্যান্সেলর ফাদার মিল্টন ডেনিস কোড়াইয়া এবং ব্রতধারী-ব্রতধারিণীগণ ও সংস্থার উপদেষ্টামণ্ডলীগণ’সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। উল্লেখ্য, ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ভাওয়াল এবং রাজশাহী অঞ্চল থেকে আগত ১৩টি সাধু আন্তনীর গানের দল, ১৮টি কষ্টের গানের দল, ১টি আলমার গীতের দল এবং ২টি বৈঠকি গানের দল দুঙ্গু পণ্ডিত মঞ্চে তাদের দলীয় গান পরিবেশন করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি দিবসব্যাপী বইমেলা এবং বিকালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সংস্থার ২য় বার্ষিক সাধারণ সভা ও বিকাল ৪টায় চড়াখোলা সততা খ্রীষ্টান সংস্থা যিশুর পালাগানের দল- যিশুর জন্ম, জীবন দর্শন, যাতনাভোগ, মৃত্যু এবং পুনরুত্থান ভিত্তিক পালাগানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। যিশুর এই গানগুলোর রচয়িতা স্বয়ং দুঙ্গু পণ্ডিত মহাশয়। অনুষ্ঠানে সর্বসাধারণের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত।
চড়াখোলায় দুঙ্গু পণ্ডিত স্মারকগ্রন্থের ঐতিহাসিক মোড়ক উন্মোচন ও বইমেলা
