টানা এক সপ্তাহের অতিভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানে সৃষ্টি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস । জেলার নিম্নাঞ্চল থেকে শুরু করে বহু দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অসংখ্য বসতঘর, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও জীবিকার উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এখনও অসংখ্য মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় পানি, খাদ্য, ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এই দুর্যোগের মধ্যেই ১১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে Jesus Youth Bandarban Team সারাদিনব্যাপী বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০-৪০০ লিটার বিশুদ্ধ পানীয় পানি পৌঁছে দিয়েছে। সীমিত সামর্থ্য ও সীমিত সম্পদ নিয়েও স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কারণ দুর্যোগের সময় এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানিও একটি পরিবারের জন্য জীবন বাঁচানোর সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন।

বন্যা চলাকালীন সময়ে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসেন। তবে পানি নেমে যাওয়ার পরই শুরু হয় প্রকৃত সংগ্রাম। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নতুন করে ঘর নির্মাণ করতে হয়, নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ও জীবিকার ব্যবস্থা করতে হয়। অথচ ঠিক এই সময়েই ত্রাণ কার্যক্রম ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হয়।

আরও একটি বড় বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ত্রাণ এমন এলাকায় পৌঁছায় যেখানে সড়ক যোগাযোগ রয়েছে বা সহজে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু বান্দরবানের অসংখ্য দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে এখনো যানবাহন পৌঁছাতে পারে না, অনেক স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই, সেখানে অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত। তাদের অনেকের খবরও বাইরের পৃথিবীর কাছে পৌঁছেয় না।
এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে Jesus Youth Bandarban দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়; বরং যেসব পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথেও পাশে দাঁড়ানো।
আমরা আমাদের শুভানুধ্যায়ী, চার্চ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি—এই মানবিক উদ্যোগে অংশীদার হোন। আপনার সামান্য সহযোগিতাও একটি ক্ষুধার্ত পরিবারের খাবার, একটি শিশুর বিশুদ্ধ পানীয় পানি, কিংবা একটি অসহায় পরিবারের নতুন করে বেঁচে থাকার আশার কারণ হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের পরিচয় দেখে আসে না; তাই আমাদের মানবিকতাও যেন কোনো সীমারেখায় আটকে না থাকে। আজ যারা বিপদে আছে, আগামীকাল হয়তো আমরাই তাদের জায়গায় থাকতে পারি। এই সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
Jesus Youth Bandarban বিশ্বাস করে—মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই খ্রিস্টের ভালোবাসা সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়। তাই আমরা প্রার্থনা করি, ভালোবাসা ও মানবতার এই যাত্রায় আরও অনেক সহযাত্রী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
সংবাদ দাতা: Jevin Tripura
