Categories সংবাদ

‘বাংলা খ্রিস্টীয় সাহিত্য একাডেমী’ ও ‘সাপ্তাহিক প্রতিবেশীর’ একসাথে চলার প্রথম প্রয়াস

২৬ জুন রোজ রবিবার সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। বৃষ্টি জলের পথ কেটে গাড়িটি এগিয়ে চললো বারাসাতের দিকে। পৌঁছতে প্রায় চারটে বেজে গেল। তবু দিনের আলোতেই পৌঁছলাম ফাদার সুনীলের আবাসনে; বাংলা দেশের সুপ্রাচীন ও উল্লেখযোগ্য বাংলা পত্রিকা ‘প্রতিবেশী’ ও পশ্চিম বঙ্গের নব্যজাত ‘বাংলা খ্রিস্টীয় সাহিত্য একাডেমী’র একত্র সহাবস্হানে। বাংলা খ্রিস্টীয় সাহিত্য একাডেমী’র সভাপতি ফাদার  সুনীল রোজারিও, সহ-সভাপতি শ্রীমতি মাধবী গিলবার্ট; সম্পাদক শ্রীমতি ড. মলি গোমেজ ভৌমিক এবং সহ সম্পাদক শ্রীমতি ড. সাধনা করালীসহ বাংলাদেশের বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. ইসিদোর গোমেজ, তৎ সহধর্মিনী- শ্রীমতি সুনীতি গোমেজ এবং প্রতিবেশী পত্রিকার সম্পাদক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু এ সভাতে অংশগ্রহণ করেন।

 

ফাদার সুনীলের সংক্ষিপ্ত প্রার্থনার পর সভার কার্যক্রম শুরু হয় । প্রথমেই আলাপচারিতার পালা। এর পর শুরু হলো কেন্দ্রীয় অর্থাৎ মূল বিষয় ভিত্তিক আলোচনা। যদিও আলোচনার ফাঁক ফোঁকরে বা বিরতি যোগে চা – পানের কোন বিলম্ব হয় নি। সকলেই আমরা বাংলার অধিবাসী। বিভিন্ন দিকে, বিভিন্ন কর্মব্যস্ততায় ছড়িয়ে আছি মাত্র। তাই সেতুবন্ধন হলো অক্লেশেই। কারোর সাথে যোগাযোগ ছিল তো কারোর সঙ্গে দেখাই হয় নি, অথচ কয়েক বছরের ফারাকে আজ তারা দৃষ্টি সীমার চৌহদ্দিতে, – এক অনুপম অনুভবের শিকার হলাম।

ড. ইসিডোর গমেজ’ ঈশ্বরের সেবক থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলীর উপর রচিত বইটি ড. মলি গোমেজ ভৌমিক এর হাতে তুলে দিচ্ছেন।

 

আবেদন নিবেদনে উঠে এল বেশ কিছু নতুন তথ্য। “আমাদের পথ চলাতেই আনন্দ” -এই আনন্দ সংঘবদ্ধ করার প্রস্তুতি লগ্নে কিছু সাধু প্রস্তাবে এ পারের আমরা উৎসাহিত। ফাদার বুলবুল কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করেন। ‘বাংলা খ্রিস্টীয় সাহিত্য একাডেমী’ ও এর মুখপত্র ‘জ্যোতির্ময়’ নামকরণ দুটি প্রতিবেশীর সম্পাদক ও অন্যদের দ্বারা প্রশংসিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। তিনি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করলেন যে ‘বাংলা’ শব্দ প্রয়োগ এর ব্যপ্তি বাড়িয়েছে। সেই কারণে কোন পারেই তা সীমাবদ্ধ নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে বেশ কিছু শব্দের বানান অঞ্চল ভেদে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই উভয় স্তরেই গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত শব্দ সংগ্রহ করে একই বানানোর নির্দিষ্ট ও স্হায়ীকরণ সুনিশ্চিত করা বিশেষ কাজ। তাতে বানানের নিরিখে শব্দ বৈষম্য দূর হবে। এমন উদ্যোগকে সকলেই সমর্থন করবে বলে অভিমত দেওয়া হয়।

অতি নবীন ‘বাংলা খ্রিস্টীয় সাহিত্য একাডেমী’র পথ চলা শুরু হয়েছে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কোলকাতার আর্চবিশপ, বারুইপুর বিশপ, ভিকার জেনারেল ও অন্যান্য শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও গবেষকদের সমর্থন-শুভেচ্ছা শিরোধার্য করে। চরৈবেতি মন্ত্রে এগিয়ে চলেছি আমরা। সর্বক্ষেত্রে যোগাযোগের পক্ষ বিস্তার করেছি। বিশেষ করে আমাদের বৃহত্তর অঙ্গন দুই বাংলার একত্রায়ণের মাধ্যমে। আমাদের সভাপতি ফাদার সুনীল রোজারিওর সহযোগিতায় ওপার বাংলার কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিওর নিকটও আবেদন রাখতে পেরেছি এর বিস্তৃতিকরণের উদ্দেশ্যে। এমন পদক্ষেপ তিনিও সমর্থন করেছেন। খ্রিস্টীয় ভাবনার সহজতা এবং সেই চিন্তন মননের উন্নত মানের সাহিত্য চর্চা ছড়িয়ে দিতে চাই। আগামী মননকে যত্ন ভরে সেই অনুসঙ্গের অধিকারী করে তুলতে হবে। কারণ এই সহজতায় প্রকাশ পায় মনের মাত্রা। সেই হেতু একান্ত প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা।

‘সাহিত্য’ অর্থাৎ সহিত – যা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে পা ফেলে এগিয়ে চলে। প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা, চিন্তা ভাবনাকে সঙ্গে নিয়ে খ্রিস্টকে বুঝতে পারা ও অনুভব করা – তারই মাঝে বিজ্ঞান মনস্কতায় খ্রিস্টের অবস্হানকে খুঁজে নেওয়া ও স্হায়ী করা, তাই চাই ওপারের সুদক্ষ সাহিত্যিকদের ভাবনার লেখ্য রূপায়ণ। তেমনি আমরাও আমাদের ভাবনার প্রতিফলন ফেলবো দীর্ঘ পথ চলার সমৃদ্ধ পত্রিকার অংশীদার হয়ে। এই প্রস্তাবে পত্রিকার সম্পাদক মহাশয় ফাদার বুলবুল আগষ্টিন কিছুটা সময় চেয়ে নেন। তিনি দপ্তরে এ বিষয়ে আলোচনা করে সদর্থক অভিমত পেলেই আমাদের জানাবেন। এমন প্রস্তাব – প্রসঙ্গে আমরাও আনন্দিত।

ততক্ষণ বাইরের রাস্তা আলোয় আলোকময় হয়ে উঠেছে, বুঝলাম – সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে।

এবার যাবার পালা। এরই মধ্যে আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে বোধ করি আমরা উভয়েই পাশাপাশি জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছি। সর্বশেষে ওপারের আমন্ত্রণ আমাদের প্রতি যেমন রইল, সম-ইচ্ছা এপারের আমরাও পোষণ করলাম। অত:পর ফাদার বুলবুল আগষ্টিনের আশাব্যঞ্জক প্রার্থনা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা হলো ।

সংবাদ দাতা

ড. মলি গোমেজ ভৌমিক