Categories সংবাদ

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন ইউরোপ এর মিলনমেলা, বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠন

গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে আনন্দঘন ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের লুটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন ইউরোপের (বিসিএই) মিলনমেলা ও বার্ষিক সাধারণ সভা। রোববার হলি গোস্ট কাথলিক চার্চের হলরুমে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার বিজয় চন্দ্র বণিক।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল সংগঠনের নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠন ও ঘোষণা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীতানুষ্ঠান এবং র‍্যাফেল ড্র।
মধ্যাহ্নভোজের পর মিল্টন কস্তার সঞ্চালনায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিবেরু সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি খ্রিষ্টান প্রবাসীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন ইউরোপ প্রতিষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের বিগত বছরের কার্যক্রম, সাফল্য ও অগ্রগতির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট সুচিত্রা তেরেজা রোজারিও। আয়-ব্যয়সহ সংগঠনের আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ট্রেজারার জুড মার্ক রোজারিও। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যথাক্রমে উষা হার্ট ও মোহন জায়গিরদার।
প্রতি দুই বছর অন্তর নেতৃত্ব পরিবর্তনের সাংগঠনিক রীতি অনুসারে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট সুচিত্রা তেরেজা রোজারিও চলমান কার্যকরী পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। বক্তারা বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব হস্তান্তর এবং ক্ষমতা আঁকড়ে না ধরে নতুন নেতৃত্বের জন্য সুযোগ সৃষ্টি সংগঠনটির গণতান্ত্রিক চর্চার অনন্য দৃষ্টান্ত।
এরপর বহুল প্রত্যাশিত নতুন কার্যকরী পরিষদের শীর্ষ পদধারীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন পরিষদে মিল্টন কস্তাকে প্রেসিডেন্ট, জুড মার্ক রোজারিওকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, সুচিত্রা তেরেজা রোজারিওকে সাধারণ সম্পাদক এবং তরঙ্গ রোজারিওকে ট্রেজারার মনোনীত করা হয়।নির্বাচন কমিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মি. অজিত রোজারিও, উষা হার্ট মোহন জায়গিরদার, শংকর ভাস্কর পালমা, ব্রায়ান ডায়েস ও জীবন যোসেফ পিরিচ।
পরবর্তী পর্বে শ্রেয়া রোজারিও ও অর্ঘ্য ইম্মানুয়েলের কস্তা যৌথ সঞ্চালনায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয় শিল্পীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। উদ্বোধনী পর্বে নৃত্য পরিবেশন করেন তন্বী রোজারিও। অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন সামারি লীনা, শারলড ডি. কস্তা, জুপিটার পামার, রঞ্জন কোরাইয়া, অপু রোজারিও, ব্রায়ান ডায়েস ও রোনাল্ড রিবেরু।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিল ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রানা খানের কনসার্ট। তাঁর হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশনায় দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। প্রবাসের মাটিতে দেশীয় গান ও সংস্কৃতির আবহ উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে স্বদেশের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী ১১ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করার পাশাপাশি ইউরোপে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এ মিলনমেলা ইউরোপপ্রবাসী বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে এক আনন্দমুখর মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। সবশেষে লুটনবাসী ও যারা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সহযোগীতা  করেছেন  তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। 
সংবাদ প্রেরক: সুচিত্রা তেরেজা রোজারিও