গত ১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, রাঙ্গামাটিয়া ধর্মপল্লীর প্রতিপালক পবিত্র যীশু হৃদয় এর পার্বণ মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিস্বরূপ ৩ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়দিনব্যাপী যিশু হৃদয়ের নয়টি গুণ নিয়ে নভেনা ও প্রার্থনা করা হয়। ৭ টি ব্লক, প্রভাত তারা সংঘ, ওয়াইসিএসএর ছেলেমেয়েরা নভেনায় দায়িত্ব পালন করেন।
নভেনায় গান, বাণী পাঠ, সার্বজনীন প্রার্থনা, অর্ঘ্য ঢালা নিয়ে আসেন এবং অনেক খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন। পর্বীয় খ্রিস্টযাগে পৌরহিত্য করেন সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ। পর্বীয় খ্রিস্টযাগের প্রারম্ভেই পবিত্র যিশু হৃদয়ের নাম কীর্তন করে নয়টি মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এই পর্বদিবসে স্থানীয় ফাদারসহ মোট ১৩ জন ফাদার, ব্রাদার, বেশ কয়েকজন সিস্টার এবং সেমিনারীয়ানসহ অনেক খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন। উপদেশে বিশপ মহোদয় বলেন, যিশুর পবিত্র হৃদয় আমাদের একান্ত আহ্বান জানায়, আমরা যেন তাঁর ভালোবাসার আশ্রয়ে থাকি। একজন খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও মণ্ডলীতে যিশুর পবিত্র হৃদয়ের ভালোবাসা পরস্পরের সাথে সহভাগিতা করি। খ্রিস্টযাগের পর বিশপ মহোদয় পর্বীয় বিস্কুট এবং যিশু হৃদয়ের ছবি আশীর্বাদ করেন। এরপর ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চ ‘আর্চডায়োসিস’ হিসেবে ৭৫ বছর পূর্তিতে রাঙ্গামাটিয়া ধর্মপল্লীতে বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, পাল-পুরোহিত ফাদার আলবিন গমেজ এবং ভাওয়াল আঞ্চলিক পালকীয় পরিষদের সভাপতি ফাদার স্ট্যানিসলাস গমেজ জুবিলীর লগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে উদ্ধোধন করেন এবং ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান করা হয়।
পর্বীয় খ্রিস্টযাগের পরে রাঙ্গামাটিয়া মিশন খ্রীষ্টান যুব সমিতি বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজকে এবং অন্যান্য যাজকদের ফুলের শুভেচ্ছা জানান এবং বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সম্মিলিত আনন্দ উৎসবের জন্য খ্রিস্টযাগের পূর্বে এবং শেষে বাদ্য বাজনা থাকে। এতে সকলে তাদের আনন্দ প্রকাশ করে।
সংবাদ দাতা: ফাদার লিয়ন রোজারিও
