ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের উদ্যোগে খ্রিস্টান মিডিয়াব্যক্তিদের এক ব্যতিক্রমধর্মী সমাবেশ ও মত বিনিময় সভা ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার বিকাল ৪:৩০মিনিটে কাকরাইলস্থ আর্চবিশপ হাউজের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “Networking & Call to be Witnesses rather than only Influencers”, আমরা কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় মুখ বা “ইনফ্লুয়েন্সার” হওয়ার জন্য নয়; বরং যিশু খিস্টের সাক্ষী হতে আহ্বানপ্রাপ্ত। যার মাধ্যমে ডিজিটাল যুগে খ্রিস্টান মিডিয়াকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সুসমাচারের বিশ্বস্ত সাক্ষী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের সদস্য ফাদার শিশির কোড়াইয়া উদ্বোধনী প্রার্থনা পরিচালনা করেন। এরপর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কমিশনের সেক্রেটারি ফাদার বিশ্বজিৎ বর্মন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে খ্রিস্টান মিডিয়া ব্যবহারকে আরও সমন্বিত, দায়িত্বশীল এবং কার্যকর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের বিকল্প নেই।
পরে অনুষ্ঠিত হয় নেটওয়ার্কিং পর্ব, যেখানে বিভিন্ন খ্রিস্টানদের বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ, গ্রুপ, ইউটিউব চ্যানেল, ওয়েবসাইট, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পরিচয়, কর্মপরিধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এইপর্বে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে মত বিনিময় করেন।
“বর্তমান সময়ে মিডিয়া নিয়ে মণ্ডলীর চিন্তা-ভাবনা” শীর্ষক মূল সহভাগিতা
পরিচালনা করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের সমন্বয়কারী ও খ্রীষ্টীয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু। তিনি বলেন, “আমরা কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় মুখ বা ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়ার জন্য নয়; বরং যিশু খ্রিস্টের সুসমাচারের সত্যিকার সাক্ষী হওয়ার জন্য আহ্বানপ্রাপ্ত। ডিজিটাল যুগে সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা ও আশার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সুসমাচার প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই খ্রিস্টান মিডিয়াকর্মীদের দায়িত্ব হবে সত্য, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে ইতিবাচক ও জীবনমুখী বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এরপর “আমাদের কথা” শীর্ষক মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। তারা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও যে সমস্ত মিডিয়া ধর্মপল্লীর পর্বদিনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্টকর কনটেন্ট ফেইসবুকে প্রচার করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে এগুলো বন্ধের আহ্বান জানান। এছাড়াও খ্রিস্টানদের জন্য মিডিয়া নীতিমালা প্রণয়ন করা যায় কি-না তা ভেবে দেখার জন্য কমিশনের প্রতি অংশগ্রহণকারীবৃন্দ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, ও সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমাপনী প্রার্থনা পরিচালনা করেন সিস্টার লাইলীরোজারিও, আরএনডিএম।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খ্রীষ্টীয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু, কমিশনের অন্যান্য সদস্য-সদস্যাবৃন্দ, ঢাকা বার্তা-এর সম্পাদক ফাদার আলবাট টমাস রোজারিও, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর প্রক্টর ফাদার প্ল্যাসিড প্রশান্ত রোজারিও, সিএসসি, বাণীদীপ্তি-এর কো-অর্ডিনেটর সিস্টার লাইলী রোজারিও, আরএনডিএম, এবং দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত এডমিন, মডারেটর, সাংবাদিক, কনটেন্ট নির্মাতা, ভিডিওগ্রাফার, ফটোগ্রাফার ও যোগাযোগ কর্মীবৃন্দ।
সব মিলিয়ে ৬৫জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে খ্রিস্টানদের মিডিয়া নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা-উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত মিডিয়া নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে কাথলিক মণ্ডলীর যোগাযোগ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং ডিজিটাল বিশ্বে যিশু খ্রিস্টের সুসমাচার প্রচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তথ্যপ্রেরক: নিউটন মণ্ডল
