মহাড়ম্বরে পালিত হলো অরিয়েন্টাল ইন্সটিটিউটের প্লাটিনাম জুবিলী

গত ৩০-৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র ক্রুশ অরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউট-এ পালিত হলো প্রতিষ্ঠানের প্লাটিনাম জুবিলী (৭৫ বর্ষপূর্তি)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ বিশপ কেভিন রেণ্ডাল। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি; বিশপ ইম্মানূয়েল রোজারিও; বিশপ থি্ওটোনিয়াস গমেজ, সিএসসি; পবিত্র ক্রুশ সংঘের প্রভিন্সিয়াল সহ সংঘের ৪০ জন যাজক, বরিশাল ধর্মপ্রদেশের ফাদার ব্রাদার সিস্টারগণ; বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সিস্টারগণ, সেমিনারিয়ান ও নবিস ভাই- বোনেরা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও গণ্যমান্য অতিথিবর্গ। দুই দিনের অনুষ্ঠানসূচির উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো- জুবিলীর মহাখ্রিস্টযাগ, আরাধনা, প্রাক্তন পরিচালক ও কর্মীদের সম্বর্ধনা, বক্তব্যপর্ব এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৩০ জানুয়ারি বিকাল ২টা সময় মহাসমারোহে বাদ্য-বাজনা সহ একটি গাড়ির বহর ছুটে যায় বরিশাল বিশপ হাউজে অতিথিদের বরণ করতে। মূলত সেখান থেকেই শুরু হয় উৎসবের প্রথম ধাপ। বাদ্যের তালে তালে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের অরিয়েন্টালে নিয়ে আসার পর শুরু হয় বরণ অনুষ্ঠান। প্লাটিনাম জুবিলীর স্মৃতিকে অম্লান রাখার জন্য যিশু হৃদয়ের বিশেষ জুবিলী স্মারক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জুবিলীর আনুষ্ঠানিকতা। অতপর বেলুন উড়ানো, জুবিলী স্মৃতি ফলকে স্বাক্ষর করা এবং ফলো গ্যালারীতে স্মৃতি ধরে রাখার মধ্য দিয়ে বরণ অনুষ্ঠান সমাপন করে অতিথিগণ চলে আসেন মূল মঞ্চে।দ্বিতীয় পর্বে ছিলো মনোগ্রাম উন্মোচন, জুবিলী থিম সং এবং অতিথিদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি এবং অতিথিবৃন্দ জুবিলীর লগো উন্মোচন করার সাথে সাথে শুরু হয় থিম সং-এর সাথে বিশেষ নৃত্য। এরই সাথে অতিথিদের পুষ্পবৃষ্টি বর্ষণ ও বেজ পড়িয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সাক্রামেন্তের আরাধনার পর পরই প্রাক্তন পরিচালক ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। একই সাথে মণ্ডলীতে অবদানের জন্য বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে মরনোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। রাতে ৭৫টি আতসবাজি উড়ানোর মধ্যদিয়ে সমাপন হয় প্রথম দিনের কর্মমূচি।

৩১ জানুয়ারি সকালে জুবিলীর মহাখ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য করেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি। তিনি তার উপদেশে অরিয়েন্টালের ঐতিহাসিক টভূমি এবং এর অগ্রযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত সহভাগিতা করেন। খ্রিস্টযাগের পর পরই শুরু হয় আগত অতিথিদের বক্তব্য অনুষ্ঠান। এতে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালক ফাদার প্লাসিড রোজারিও, সিএসসি; বিশপ ইম্মানূয়েল রোজারিও, বিশপ থিওটোনিয়াস গমেজ, সিএসসি; প্রধান অতিথি আর্চবিশপ কেভিন রেণ্ডল সহ আরও অনেকে।

প্লাটিনাম জুবিলীকে কেন্দ্র করে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও একটি ঐতিহাসিক বই রচনা করেন যা এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয়। এরপরই অতিথিদের হাতে জুবিলী ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। বক্তব্যপর্বের সমাপন লগ্নে ছিলো জুবিলী স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন। অতপর প্রীতি ভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সকালের অধিবেশন। বিকালের পর্বটি ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের বিপূল সমারোহ। বরিশালের বেশ কয়েকটি নৃত্যকলা একাডেমি এবং স্থানীয় শিল্পিদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলা হয়। সন্ধ্যায় ছিলো আকর্ষণীয় ম্যাজিক শো। রাতের অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আগত শিল্পিদের পরিবেশনায় কনসার্টের মধ্য দিয়ে সমাপন হয় জুবিলীর মহোৎসব।

সংবাদদাতা: ফাদার প্লাসিড রোজারিও, সিএসসি