মহাসমারোহে উদযাপিত হলো বারমারী ফাতেমা রাণী মারীয়ার বার্ষিক তীর্থযাত্রা

গত ৩০-৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো বারমারী ফাতেমা রাণী মারীয়ার বার্ষিক তীর্থযাত্রা ও উদযাপিত হলো বারমারী তীর্থস্থানের ২৫ বছরের রজত জয়ন্তী। ৩০ অক্টোবর সকালে ভাতিকান রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ এপোস্টলিক নুন্সিও মহামান্য কেভিন র‌্যান্ডল স্টুয়ার্ট এবং ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল পনেন পল কুবি সিএসসি’কে মান্দি কৃষ্টিতে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর সকাল ১০টায় এপোস্টলিক নুন্সিও মহোদয় ২৫ বছর পূর্তি স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন। সেইসাথে মোমবাতি প্রজ্বলন, কবুতর উড়ানো ও এই বছরের স্মরণীকার মোড়ক উন্মোচন করেন। এরপর দুপুর ২টায় পাপস্বীকার অনুষ্ঠান এবং বিকেল ৪টায় পবিত্র খ্রিস্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত খ্রিস্টযাগে পৌরহিত্য করেন বিশপ পনেন পল কুবি সিএসসি এবং বাণী সহভাগিতা করেন কেভিন র‌্যান্ডাল স্টুয়ার্ট। তিনি তার বাণীতে বলেন, “আমেরিকানরা ঈগলকে প্রতীক মনে করে, কারণ জীবনে নিজেকে নবায়ন করার জন্য এক সময় ঈগলের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ঈগলের মতোই আমাদেরকে খারাপ দিক পরিত্যাগ করে নতুন ভালোকে গ্রহণ করে নিতে হবে।” রাত ৮টায় রোজারি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আলোক শোভাযাত্রা এবং রাত সাড়ে ১০টায় আরাধনা ও নিরাময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের পর্ব শেষ হয়।

৩১ অক্টোবর, সকাল ৮টায় ‘ক্রুশের পথ প্রার্থনা’ মধ্য দিয়ে তীর্থযাত্রার দ্বিতীয় দিনের সূচনা হয়। অতঃপর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত পবিত্র খ্রিস্টযাগে সহভাগিতা করেন বিশপ পনেন কুবি সিএসসি ও সহযোগিতায় ছিলেন নুন্সিও মহোদয়, মন্সিনিয়র শিমোন হাচ্চা এবং বারমারী ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার তরুণ বনোয়ারী। বাণী সহভাগিতায় নুন্সিও বলেন, “পিতা পরমেশ্বর আমাদের দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই প্রকৃত আমিকে প্রকাশ করেন।” খ্রিস্টযাগ শেষে পাল-পুরোহিত ফাদার তরুণ সকল তীর্থযাত্রী ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। পরিশেষে নুন্সিও’র বিশেষ আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে এ বছরের তীর্থযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। উক্ত তীর্থযাত্রায় বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশ থেকে আগত ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার’সহ প্রায় ৪০,০০০ খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদাতা:ফাদার নোবেল জেভিয়ার পাথাং